নীহারিকা তিলাপিয়া পোনা লিটারেচার
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। যেখানে রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, হাওড়-বাওড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক জলাশয়। এক সময় এসব জলাশয় থেকে মোট মাছ উৎপাদনের ৭০% পাওয়া যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসব মাছের প্রাচুর্যতা কমে গেছে। এমতাবস্থায়, মাছের চাহিদা পূরণের লক্ষে এদেশে ব্যাপকভাবে মাছের চাষ হচ্ছে। দেশীয় প্রজাতির পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে তেলাপিয়া তেলাপিয়া মাছ খুবি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তেলাপিয়া একটি বিদেশী মাছ যার আদি নিবাস আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া। এ যাবৎ ১১২ প্রজাতির তেলাপিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। তন্মধ্যে নাইল তেলাপিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি যা বর্তমানে ১৪০ টি দেশে চাষ হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী গবেষণার মাধ্যমে নাইল তেলাপিয়ার বেশকিছু জাত (স্ট্রেইন) উন্নয়ন করা হয়েছে যার মদ্ধে নীহারিকা ফিশারিজ এন্ড হ্যাচারীজ করতিক আমদানীকৃত ফিলিপাইনের সেন্ট্রাল লুজোন স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্তৃক উন্নয়নকৃত জাত (স্ট্রেইন) ফাস্ট (ফ্রেশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার সেন্ট্রাল নির্বাচিত তেলাপিয়া) অন্যতম। পুরুষ তেলাপিয়ার বৃদ্ধি মহিলা তেলাপিয়ার চেয়ে শতকরা ২৫-৩০ ভাগ বেশী হওয়ায় মনোসেক্স পুরুষ তেলাপিয়া চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নীহারিকা তেলাপিয়া পোনার বৈশিষ্ট্যঃ
- ন্যূনতম ৯৮% পুরুষ তেলাপিয়া।
- সিলেকটিভ ব্রিডিং পদ্ধতিতে নির্বাচন দ্রুত বর্ধনশীল জাত।
- চাষ পদ্ধতি খুব সহজ এবং স্বল্পতম সময়ে মাছ বিক্রয় উপযোগী হয়।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী।
- বিভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে খাপ খাওয়াতে সক্ষম।
- উত্তম খাদ্য রোপান্তর হার (এফসিআর)।
- দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের (ফ্রোজেন/ফিলেট হিসাবে) উপযোগী জাত।
মনোসেক্স তেলাপিয়া পোনার নার্সিং পদ্ধতিঃ
নার্সিং পুকুরের আয়তন ২০-৪০ শতাংশ এবং পানির গভীরতা ৩-৪.৫ ফুট হলে ভাল হয়। পুকুর শুকিয়ে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ নির্মূল করতে হবে। পুকুরে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের ৩-৪ দিন পরে পরিমিত হারে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। নার্সারি পুকুরের প্রতি শতাংশে ০.২৫-০.৩৩ গ্রাম ওজনের ১০০০-১২০০ টি হারে পোনা মজুদ করা যেতে পারে। পোনা মজুদের সময় ব্যাগসহ নার্সারি পুকুরে ২৫-৩০ মিনিট রেখে পুকুরের পানি ও ব্যাগের পানির তাপমাত্রা সমন্বয় করে ছাড়তে হবে।
নার্সারি পুকুরে পোনার খাদ্য প্রয়োগ মাত্রাঃ
১০০০ টি তেলাপিয়া পোনার খাদ্যের হিসাবঃ
| গড় ওজন | ফিডের নাম | কোড নং | দৈনিক খাদ্যের পরিমান | দৈনিক খাদ্য প্রয়োগ | |
| ০.২৫-১ গ্রাম | নার্সারি | ৯০০ | ৫০-৩০% | ১২৫-৩০০ গ্রাম | ৫/৬ বার |
| ১+-৩ গ্রাম | নার্সারি-১ | ৯০০এন১ | ৩০-২০% | ৩০০-৬০০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ৩+-৭ গ্রাম | নার্সারি-২ | ৯০০এন২ | ২০-১২% | ৬০০-৮৪০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ৭+-১৫ গ্রাম | প্রি-স্টার্টার | ৯০১পি | ১২-৮% | ৮৪০-১২০০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ১৫+-২৫ গ্রাম | তেলাপিয়া স্টার্টার | ৭০১ | ৮-৬% | ১২০০-১৫০০ গ্রাম | ৩/৪ বার |
- পুকুরের মাটি, পানির গভীরতা, পানির রং এবং অন্যান্য ব্যাবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে সময় এবং খাবারের পরিমান কম বা বেশী হতে পারে।
নার্সারি পুকুরে ৪-৫ সপ্তাহ লালনের পর ২০-২৫ গ্রাম ওজনের পোনা চাষের জন্য পুকুরে মজুদ করতে হবে।
মনোসেক্স তেলাপিয়ার চাষ ব্যাবস্থাপনাঃ
পুকুর প্রস্তুতির পর প্রতি শতাংশে ১২০-১৬০ টি পোনা চাষের পুকুরে মজুদ করতে হবে। পোনা মজুদের পর ২৭-৩০% প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।
চাষের পুকুরে পোনার খাদ্য প্রয়োগ মাত্রাঃ
১০০০ টি তেলাপিয়া পোনার খাদ্যের হিসাবঃ
| গড় ওজন | ফিডের নাম | কোড নং | দৈনিক খাদ্যের পরিমান | দৈনিক খাদ্য প্রয়োগ | |
| ২৫+-৪০ গ্রাম | তেলাপিয়া স্টার্টার | ৭০১ | ৬-৫% | ১৫০০-২০০০ গ্রাম | ৩/৪ বার |
| ৪০+-১০০ গ্রাম | তেলাপিয়া গ্রোয়ার | ৭০২ | ৫-৪.৫% | ২০০০-৪৫০০ গ্রাম | ২/৩ বার |
| ১০০+-বিক্রয় পর্যন্ত | তেলাপিয়া ফিনিশার | ৭০৩ | ৪.৫-১.৫% | ৪৫০০+ গ্রাম | ২ বার |
- পুকুরের মাটি, পানির গভীরতা, পানির রং এবং অন্যান্য ব্যাবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে সময় এবং খাবারের পরিমান কম বা বেশী হতে পারে।
মজুদ পরবর্তী পরিচর্যাঃ
১৫ দিন পর পর প্রতি শতাংশে ১০০-১৫০ গ্রাম ছুন/জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে। পিএইচ মান ৬.৫-৮.৫ এর মদ্ধে রাখার ব্যাবস্থা করতে হবে। পুকুরে মাছের বৃদ্ধির হার, রোগবালাই দমন, বেঁচে থাকার হার ও সম্পূরক খাদ্যের পরিমাণ নির্ণয় করার জন্য ১৫ দিন পর পর মোট মাছের ২-৩% নমুনায়ন করতে হবে। উন্নত জাতের তেলাপিয়ার সাথে স্থানীয় জাতের তেলাপিয়ার যাতে মিশ্রণ না ঘতে সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
মাছ আহরণ ও উৎপাদনঃ
পুকুরে পোনা মজুদের ৪ মাসের মধ্যে প্রতিটি তেলাপিয়ার ওজন ২৫০-৩৫০ গ্রাম হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে চাষ করে বছরে দুটি ফসল পাওয়া যায় এবং প্রতি ফসলে একরে প্রতি ৫০০০-৬০০০ কেজি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।
মাছ চাষে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিশয়সমুহঃ
- দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্য প্রয়োগ করা ভাল, পুকুরেরর মাঝ বরাবর দুই পাশে খাদ্য প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
- প্রতি মাসে দুইবার মাছের ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
- মাছ শীতকালে বেশী রগাক্রান্ত হয় বিধায় আশ্বিন-কার্তিক মাসে প্রতি শতাংশে ০.৫ কেজি চুন ও ০.৫ কেজি লবণ ১৫ দিন পর পর মাসে দুই বার ব্যাবহার করলে মাছ সাধারণত রোগাক্রান্ত হয়না।
- কার্তিক-অগ্রাহায়ণ মাস থেকে শীতকালে প্রতি ১৫-২০ দিন পর পর জীবাণুনাশক প্রয়োগ করলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়।
- যেকোনো অনাকাঙ্খিত রোগ ও এর চিকিৎসা এবং খামার সংশ্লিষ্ট পরামর্শের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অথবা নীহারিকা ফিশারিজ এন্ড হ্যাচারীজ এর মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা খামারকে আরও লাভজনক করবে।
নীহারিকা ফিশারিজ এন্ড হ্যাচারীজ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যঃ
- স্পেসালাইজড এক্সপার্ট টিম দ্বারা পরিচালিত।
- জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে জাত উন্নয়ন।
- প্রোজেনি টেস্টের মাধ্যমে পুরুষ অনুপাত পরীবিক্ষন।
- নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে পরিমাণমত পোনা (সময়-পোনা-অক্সিজেন অনুপাত নির্ধারণ করে) অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিবহন করা হয়।