সুবর্ণ রুই পোনা লিটারেচার
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) দীর্ঘ এক যুগের গবেষণার পর রুই মাছের নতুন এই জাতটি উদ্ভাবন করেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে অবমুক্ত হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুবর্ণ রুই’। এটি দ্রুত বর্ধনশীল এবং সাধারণ রুইয়ের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।
সুবর্ণ রুই পোনার বৈশিষ্ট্যঃ
- দ্রুত বৃদ্ধি: এই মাছ সাধারণ রুইয়ের তুলনায় প্রায় ২০.১২% বেশি দ্রুত বাড়ে।
- উন্নত জাত: হালদা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের প্রাকৃতিক উৎসের রুই থেকে জেনেটিক সিলেকশনের মাধ্যমে এই মাছ প্রস্তুত করা হয়।
- আকর্ষণীয় রূপ: মাছের শরীরের উপরিভাগ লালচে ও সোনালী আভার হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেশি।
- উচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতা সাধারণ রুইয়ের চেয়ে বেশি।
নার্সারি পুকুরে পোনার খাদ্য প্রয়োগ মাত্রাঃ
১০০০ টি তেলাপিয়া পোনার খাদ্যের হিসাবঃ
| গড় ওজন | ফিডের নাম | কোড নং | দৈনিক খাদ্যের পরিমান | দৈনিক খাদ্য প্রয়োগ | |
| ০.২৫-১ গ্রাম | নার্সারি | ৯০০ | ৫০-৩০% | ১২৫-৩০০ গ্রাম | ৫/৬ বার |
| ১+-৩ গ্রাম | নার্সারি-১ | ৯০০এন১ | ৩০-২০% | ৩০০-৬০০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ৩+-৭ গ্রাম | নার্সারি-২ | ৯০০এন২ | ২০-১২% | ৬০০-৮৪০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ৭+-১৫ গ্রাম | প্রি-স্টার্টার | ৯০১পি | ১২-৮% | ৮৪০-১২০০ গ্রাম | ৪/৫ বার |
| ১৫+-২৫ গ্রাম | তেলাপিয়া স্টার্টার | ৭০১ | ৮-৬% | ১২০০-১৫০০ গ্রাম | ৩/৪ বার |
- পুকুরের মাটি, পানির গভীরতা, পানির রং এবং অন্যান্য ব্যাবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে সময় এবং খাবারের পরিমান কম বা বেশী হতে পারে।
পুকুর প্রস্তুতি ও পোনা মজুত:
- পুকুর নির্বাচন: পুকুরের আয়তন ২০ শতাংশের উপরে এবং গভীরতা ৫-৬ ফুট হওয়া আদর্শ।
- চুন ও সার প্রয়োগ: পুকুর শুকিয়ে শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন এবং ৪-৫ দিন পর নির্দিষ্ট হারে সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য (প্লাঙ্কটন) তৈরি করতে হবে।
- মজুত ঘনত্ব: একক চাষের ক্ষেত্রে শতাংশ প্রতি ৪০-৫০টি এবং মিশ্র চাষে ১০-১৫টি সুবর্ণ রুইয়ের পোনা মজুত করা যায়।
চাষের পুকুরে পোনার খাদ্য প্রয়োগ মাত্রাঃ
১০০০ টি তেলাপিয়া পোনার খাদ্যের হিসাবঃ
| গড় ওজন | ফিডের নাম | কোড নং | দৈনিক খাদ্যের পরিমান | দৈনিক খাদ্য প্রয়োগ | |
| ২৫+-৪০ গ্রাম | তেলাপিয়া স্টার্টার | ৭০১ | ৬-৫% | ১৫০০-২০০০ গ্রাম | ৩/৪ বার |
| ৪০+-১০০ গ্রাম | তেলাপিয়া গ্রোয়ার | ৭০২ | ৫-৪.৫% | ২০০০-৪৫০০ গ্রাম | ২/৩ বার |
| ১০০+-বিক্রয় পর্যন্ত | তেলাপিয়া ফিনিশার | ৭০৩ | ৪.৫-১.৫% | ৪৫০০+ গ্রাম | ২ বার |
- পুকুরের মাটি, পানির গভীরতা, পানির রং এবং অন্যান্য ব্যাবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে সময় এবং খাবারের পরিমান কম বা বেশী হতে পারে।
খাদ্য ব্যবস্থাপনা:
- সুবর্ণ রুইয়ের উচ্চ ফলন পেতে ২৫-৩০% প্রোটিন সমৃদ্ধ সম্পূরক ভাসমান খাবার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
- মাছের ওজনের ৩-৫% হারে দৈনিক দুইবার খাবার দিতে হবে।
- নিয়মিত পানির গুণাগুণ (পিএইচ ও অ্যামোনিয়া) পরীক্ষা করতে হবে।
উৎপাদন ও আহরণ:
- উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৬-৮ মাসেই এই মাছ বিক্রয়যোগ্য ওজনে পৌঁছায়।
- একই সময়ে সাধারণ রুইয়ের তুলনায় সুবর্ণ রুই থেকে অনেক বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব।
মাছ চাষে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিশয়সমুহঃ
- দৈনিক নির্দিষ্ট সময়ে এবং নির্দিষ্ট স্থানে খাদ্য প্রয়োগ করা ভাল, পুকুরেরর মাঝ বরাবর দুই পাশে খাদ্য প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
- প্রতি মাসে দুইবার মাছের ওজন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
- মাছ শীতকালে বেশী রগাক্রান্ত হয় বিধায় আশ্বিন-কার্তিক মাসে প্রতি শতাংশে ০.৫ কেজি চুন ও ০.৫ কেজি লবণ ১৫ দিন পর পর মাসে দুই বার ব্যাবহার করলে মাছ সাধারণত রোগাক্রান্ত হয়না।
- কার্তিক-অগ্রাহায়ণ মাস থেকে শীতকালে প্রতি ১৫-২০ দিন পর পর জীবাণুনাশক প্রয়োগ করলে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়।
- যেকোনো অনাকাঙ্খিত রোগ ও এর চিকিৎসা এবং খামার সংশ্লিষ্ট পরামর্শের জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অথবা নীহারিকা ফিশারিজ এন্ড হ্যাচারীজ এর মৎস্য বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা খামারকে আরও লাভজনক করবে।
নীহারিকা ফিশারিজ এন্ড হ্যাচারীজ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যঃ
- স্পেসালাইজড এক্সপার্ট টিম দ্বারা পরিচালিত।
- জেনেটিক গবেষণার মাধ্যমে জাত উন্নয়ন।
- প্রোজেনি টেস্টের মাধ্যমে পুরুষ অনুপাত পরীবিক্ষন।
- নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে পরিমাণমত পোনা (সময়-পোনা-অক্সিজেন অনুপাত নির্ধারণ করে) অত্যন্ত যত্ন সহকারে পরিবহন করা হয়।